শনিবার ২৩ আগস্ট ২০২৫ - ২১:২০

হাওজা নিউজ এজেন্সিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মাওলানা হায়দার আলী সাহেব (পেশ ইমাম নারিকেল বেড়িয়া মসজিদ উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত)

ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি হচ্ছে মানবজীবনে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা। নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং ইমাম হাসান (আ.) তাদের জীবনকালে এই মূল্যবোধগুলোকে অনন্যভাবে প্রমাণিত ও প্রতিপাদিত করেছেন। তাদের চরিত্র, আদর্শ ও আচরণে যে মহান নৈতিক শিক্ষাগুলো নিহিত, সেগুলো শুধু সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয়, বরং আজকের আধুনিক সমাজেও মানবিক ও সামাজিক সম্পর্কের সঠিক দিশা প্রদর্শন করে। নবী (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.) এর জীবন থেকে ইসলামি মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার প্রধান দিকগুলোকে বিশ্লেষণ করে আমরা বুঝতে পারি কিভাবে সততা, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, দয়া ও ন্যায়পরায়ণতা একটি সুস্থ ও উন্নত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ

মাওলানা হায়দার আলী সাহেব।

আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য। নবী করিম (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.) এর জীবন থেকে আমরা কী কী ইসলামি মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি?

মাওলানা হায়দার আলী: ওয়ালাইকুমুসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি। ধন্যবাদ মাজিদুল ভাই। নবী (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.) আমাদের জন্য জীবন্ত মূর্তি, যাদের জীবন থেকে অসংখ্য মূল্যবান শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব। প্রধান শিক্ষা হলো সত্যনিষ্ঠা, ধৈর্য, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, এবং দয়া ও মমতা।

আপনি যদি একটু বিস্তারিত বলেন, তাহলে কীভাবে এই গুণগুলো তাদের জীবনে প্রকাশ পায়?

মাওলানা হায়দার আলী: নবী (সা.) ছিলেন সর্বোচ্চ সততা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক। তিনি সর্বদা মানুষের কল্যাণ ও সামাজিক সুবিচারের জন্য কাজ করেছেন। ইমাম হাসান (আ.) তার জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের অধিকারের ত্যাগ করেছেন, যা আমাদের শেখায় যে কখনো কখনো বৃহত্তর কল্যাণের জন্য ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করাটাই নৈতিক বিজয়।

বর্তমান সময়ে এই শিক্ষাগুলো আমাদের জীবনে কতটা প্রাসঙ্গিক?

মাওলানা হায়দার আলী: অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ও সংকটপূর্ণ সমাজে এসব মূল্যবোধ আমাদের পথপ্রদর্শক। আমরা যদি সত্য, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও ন্যায়ের পথে চলি, তাহলে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।

আপনি কি মনে করেন, নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?

মাওলানা হায়দার আলী: তরুণরাই জাতির ভবিষ্যত। তাদের উচিত নবী (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.) এর জীবনী অধ্যয়ন করে নিজেদের চরিত্র গঠন করা। নৈতিকতা ও মূল্যবোধে দৃঢ় হওয়া, অসততা ও অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়া—এগুলোই তাদের দায়িত্ব।

আমাদের সমাজে কি ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং আমরা কীভাবে এগুলো মোকাবেলা করতে পারি?

মাওলানা হায়দার আলী: আজকের সমাজে অনৈতিকতা, প্রতারণা, ও অহংকার বেড়ে চলেছে। আমরা যদি নবী (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.) এর আদর্শ অনুসরণ করি, তাহলে এসব সমস্যার মোকাবেলা সহজ হবে। শিক্ষা, পরিবার ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নৈতিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে।

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে তরুণদের জন্য আপনার কোন বার্তা থাকবে?

মাওলানা হায়দার আলী: আমি বলব, সদা সত্য ও ন্যায়ের পথে চলুন। নবী (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.) এর জীবনী থেকে অনুপ্রেরণা নিন এবং নিজের জীবনে তাদের শিক্ষাগুলো প্রয়োগ করুন। এতে ব্যক্তিগত উন্নতি এবং সমাজের মঙ্গল নিশ্চিত হবে।

জাযাকাল্লাহ খাইর মাওলানা সাহেব, আপনার অনুপ্রেরণামূলক ও মূল্যবান সময়ের জন্য। আল্লাহ আপনাকে আরও শক্তি ও হিকমত দান করুন।

মাওলানা হায়দার আলী: আমীন। আপনাকেও ধন্যবাদ, মাজিদুল ভাই।

সাক্ষাত্কার গ্রহণ: মাজিদুল ইসলাম শাহ

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha